ঘাড় এবং বগলের কালো দাগ দূর করার সহজ উপায় জানেন কি?

ঘাড় এবং বগল স্থায়ী ভাবে ফর্সা করার সহজ উপায়!

ঘাড় এবং বগলের কালো দাগ স্থায়ী ভাবে দূর করার সহজ উপায়

আপনি কি খুব চিন্তিত? ভাবছেন কিভাবে বগলের অর্থাৎ আন্ডার আর্ম এর কালো দাগ দুর করবেন? আমাদের মধ্যে অনেকে রয়েছেন যার শরীরের সব অংশ অনেক ফর্সা ও পরিষ্কার কিন্তু আন্ডার আর্ম অর্থাৎ বগলের অবস্থা ভয়ানক খারাপ। এমন হয় যে পাল্লারে বা, সেলুনে গিয়ে পড়তে হয় বিব্রতের মুখে। যখন কেউ সুইমিংসুট পরে বা হাতা ছোট যেকোনো ড্রেস পরে অথবা পার্লারে কোন ট্রিটমেন্ট নিতে যায় তখন খুবই বিব্রতকর সমস্যার মধ্যে পড়ে।

পুরুষ বা মহিলা সবারই বগল ক্লিন থাকা অনেক জরুরি। আপনি যতোই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে থাকেন না কেনো বগল যদি পরিষ্কার না দেখয় তবে শরীর পরিষ্কার থাকা না থাকা সমান হয়ে যায়। যদিও বেশ কিছু অসতর্কতার জন্যই আমাদের এই সমস্যা সৃষ্টি হয়। একদিনের ভুলে কখনো আন্ডার আর্ম কালো হয় না। দীর্ঘ দিন অপরিষ্কার রাখতে রাখতে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়। অনেকের আবার বংশগত ভাবে বগল বা আন্ডার আর্ম কালো থাকতে পারে সেটা কোন বিষয় না। সো যে কারনেই হোক আজ এই লেখাটির মাধ্যমে বগল পরিষ্কার রাখার সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। প্রথমে দেখা যাক কেনও বগলের অবস্থা এতো খারাপ হলো। আপনিও বুঝুন কোন কারনে আপনার বগলের অবস্থা এমন বেহাল দশা।

বগল অর্থাৎ আন্ডার আর্ম এর কালো দাগ হওয়ার কারন কি কি?

১) সেভিং

বগল রেগুলার সেভ করা উচিৎ। রেগুলার যদি সেভ না করা হয় তবে বগলের কালো দাগ কখনও দুর হবে না। তারপরও যারা সেভ করেন তারা রেজর দিয়েই সেভ করেন কিন্তু রেজর দিয়ে সেভ করলে শুধুমাত্র ত্বকের উপরিভাগের লোম টুকু কাটা পড়ে। এমনকি যদি ভিট বা, Anne Freanch নামক হেয়ার রিমুভার ব্যবহার করেন তখনও সেই রেজরের মতোই উপরের লোম গুলো কেটে পড়ে যায় কিন্তু গোড়া থেকে উঠে আসে না। যেহেতু গোড়া থেকে ওঠে না তাই কালচে ভাব রয়েই যায়৷ আবার সেভ করার পরের দিনই হালক লোম বাড়ার কারনে কালো রং দুর হয় না। তাই বগলের লোম দুর করার জন্য ওয়াক্সিং সবচেয়ে উপযুক্ত। কারন এটি চুলের গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে সাহায্য করে। যদি এটি ব্যবহার করতে না পারেন বা, না পান তবে দয়া করে রেজর ব্যবহার করে সেভ করবেন এটা আমার বিশেষ অনুরোধ। রেগুলার সেভ করলে অন্তত একটু হলেও ফ্রেস লাগবে। নিজেকে ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি যদি সেভ না করে তবে তার বগল দেখতে কেমন ডিসকাস্টিং লাগে আপনি সেভ না করলে তারথেকেও অনেক বেশি সুন্দর লাগবে এটা ভাববেন না।

২) মৃত কোষ

বগল অল টাইম ঢাকা থাকে। ঢাকা থাকার কারনে হাঁটা চলাফেরা করার সময় ঘর্ষণ লাগে। এই ঘর্ষণ এর ফলে বগলের ত্বকের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোষ গুলো মরে জাওয়ার কারনে ত্বক কালো বর্ন হয়ে যায়। তো যেহেতু বগল উঁচু রেখে চলাফেরা করা সম্ভব নয় তাই বগলের ত্বকের চামড়া কালো হতে দিতে হবে। কিন্তু এটা পরিষ্কার রাখার জন্য আমাদের নিয়ম মেনে স্ক্রাব ব্যবহার করতে হবে। তবে স্ক্রার্বে অবশ্যই ল্যাকটিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ হতে হবে। তাহলে সহজে মৃত কোষ দুর হবে।

৩) অতিরিক্ত এন্টিপারস্পাইরেট বা, ডিওডোরেন্ট ব্যবহার

প্রতি প্রত্যেকের বগলে দুর্গন্ধ হয়ে থাকে। কারও কম আবার কারও বেশি। কিন্তু এই দুর্গন্ধ যাতে সুন্দর ঘ্রানে বদলে ফেলা যায় তার জন্য আমরা ডিওডোরেন্ট ব্যবহারে করে থাকি। এটা পরিক্ষিত যে ডিওডোরেন্টে যেসব কেমিক্যাল থাকে সে কেমিক্যাল বগল বা আন্ডার আর্মের ত্বক কালো করার জন্য বিশেষ ভাবে দায়ী। তো যেহেতু ডিওডোরেন্ট আন্ডার আর্ম এর গন্ধ দুর করার জন্য ব্যবহার করি সেহেতু এটা ব্যবহার আমরা বাদ দিতে পারি না। তাই সেনসিটিভ ত্বকের জন্য যে ডিওডোরেন্ট তৈরি করা হয় সে গুলো ব্যবহার করুন। তাতে ত্বকের উপর ক্ষতিকর প্রভাব টা কম পড়বে৷ এছাড়াও আন্ডার আর্ম এর গন্ধ প্রাকৃতিক উপায়েও দুর করার চেষ্টা করতে পারেন তাতে ত্বক কালো হওয়ার কোন চান্স থাকবে না।

৪) ফ্রিকশন বা ঘর্ষণ

আমরা অনেকেই টাইট ফিট পোশাক পরতে খুব পছন্দ করি। কারন টাইট ফিট পোশাক না পড়লে স্টাইল হয় না। এমন কি আমিও কিন্তু ফিটিং পোশাক পরতে বেশি পছন্দ করি। যাইহোক টাইট ফিট পোশাক পড়লে আন্ডার আর্ম বা, বাহুর সাথে নিচের ত্বকের সাথে ঘর্ষণের কারনে কালো দাগ পড়ে যায়। তাই অতিরিক্ত টাইট পোশাক পড়া ঠিক না। পোশাক এমন হওয়া উচিৎ যা গরমে আরাম দেয় এবং যার মধ্যে হাওয়া প্রবেশ করতে পারে। বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয় সেই সমস্ত লোক যাদের শরীরে চর্বি বা, মেদের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। তো টাইট বা ঢিল যে কোন ড্রেস পড়ুন না কেনও আপনার যদি চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে তবে কোন ভাবেই দাগ থেকে মুক্তি পাবেন না। তাই চর্বি কমানোর চেষ্টা করুন।

৫) বংশগত কারন

আন্ডার আর্ম বা, বাহুর কালো দাগের আরও একটি অন্যতম কারন হলো বংশগত সমস্যা। অর্থাৎ এমন অনেক লোক রয়েছে যাদের বংশের ধারা বা জিনগত কারনে বগল এর মধ্যে কালো দাগ হয়ে থাকে। তো তারাও কিন্তু প্রাকৃতিক টিপস গুলো ফলো করে পরিষ্কার করার চেষ্টা করতে পারেন।

৬) জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি

অনেক মহিলা রয়েছে যারা জন্ম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রতিনিয়ত পিল খায়। পিল গ্রহণ করা খারাপ না কিন্তু এই বড়ি খেলে কারও কারও এই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে প্রথম দিকে বুঝতেই পারে না কেনও আন্ডার আর্ম কালো হয়ে যাচ্ছে। তো যদি আপনি জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খান আর আপনার বগল দিন দিন কালো হয়ে যাচ্ছে তবে বুঝতে হবে এটা একমাত্র পিলের জন্য। অর্থাৎ এই পিল আপনার শরীরের সাথে ম্যাচ করছে না। তাই ডক্টর এর পরামর্শ নিয়ে পিল খান কারন ভবিষ্যতে অন্য কোনো বড়ো রোগ সৃষ্টি হতে পারে এই পিলের কারেনে।

৭) ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস এর কারনেও কিন্তু আমাদের আন্ডার আর্ম কালছে হয়ে যেতে পারে। সুধু এই সমস্যা নয় ডায়াবেটিস এর কারনে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। তাই সবসময় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। 

আন্ডার আর্ম বা, বগলের কালো দাগ থেকে মুক্তির সহজ উপায় সমূহঃ

১) এক্সফোলিইয়েটিং অথবা ওয়াক্সিং করান

আমি পূর্বেই বলেছি আন্ডার আর্ম বা বগলের কালো দাগ হওয়ার পিছনে সেভিং অথবা হেয়ার রিমুভিং ক্রিম প্রাথমিক ভাবে দায়ী। তাই ওয়াক্সিং করার চেষ্টা করুন। যদিও ওয়াক্সিং করার সময় একটু ব্যাথা লাগে কিন্তু এর কারনে চুল গোড়া থেকে উঠে আসে এবং যার ফলে বগল বা আন্ডার আর্ম একদম ফ্রেশ ও ফর্সা হয়ে যায়। আপনি যদি চিরদিনের জন্য আন্ডার আর্ম এর কালো দাগ দুর করতে চান সে ক্ষেত্রে ওয়াক্সিং করুন। কারন এটি স্থায়ী পদ্ধতি। বড়ো বড়ো সেলিব্রিটিরা ওয়াক্সিং করে। যেহেতু তাদের ক্যামেরার সামনে আসতে হয়। আপনি সাধারণ মানুষ হলেও এটা করালে বগলের গন্ধ হবে না এবং অলটাইম ফ্রেশ থাকবে।

২) ফর্সাকারী মাস্ক

আন্ডার আর্মের কালো দাগ দুর করতে ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি করতে পারেন ফর্সাকারী মাস্ক।

উপকরণ সমুদ্রঃ

  • হাপ চামচ লবণ
  • ১/৩ কাপ গোলাপ জল 
  • ১/৩ কাপ জনসন বেবি পাউডার

মাস্ক তৈরির পদ্ধতিঃ

উপকরণ সমূহ গুলো সব এক সাথে মিশিয়ে নিতে হবে। সুন্দর মতো মিসে গেলে এটি বগলে ভালো করে লাগিয়ে নিতে হবে। সেভিং বা ওয়াক্সিং যেটাই করেন সেটার পরই এই মিশ্রণ ব্যবহার করবেন। এটি ব্যবহারের প্রথম বারেই ফলাফল দেখতে পাবেন। যদি এটি সপ্তাহে দুই বার ব্যবহার করেন তাহলে আন্ডার আর্ম নিয়ে আর ভাবতে হবে না।

৩) লেবুর রস ব্যবহার

লেবুর রস ভিষণ উপকারী উপাদান। এটি ব্যবহার করলে কালচে দাগ তাড়াতাড়ি উঠে যায়। স্নানের আগে লেবু কেটে নিয়ে ভালো করে ঘষে নিতে হবে। লেবু প্রাকৃতিক ব্লিচিং এর কাজ করে। স্নানের শেষে ত্বক কোমল রাখর জন্য ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম ব্যবহার করুন।

৪) শসা ও আলুর মিশ্রণ

আলু  এবং শসা প্রাকৃতিক ব্লিচিং হিসেবে কাজ করে। আলু পাতলা করে কেটে বগলে ঘষবেন। শসা ও একই ভাবে কেটে ঘসতে পারেন। অথবা এই দুটিকে মিশ্রণ করে একটা কাপড়ের টুকরোতে লাগিয়ে আন্ডার আর্ম এ ঘষুন। দেখবেন কালচে দাগ গুলো আস্তে আস্তে ভেনিস হয়ে যাচ্ছে।

৫) জাফরান মিশ্রণ

জাফরান এতোটা উপকারী যা না লাগালে বুঝতে পারবেন না। তাই এক চিমটি জাফরান নিন তার সাথে দুই চামচ দুধ অথবা ক্রীমে মিশান। সব থেকে ভালো হয় দুধের সাথে মিশালে। মিশ্রণ শেষে প্রতিদিন ঘুমানোর আগে বগলে লাগিয়ে ঘুম পড়ুন আর সকালে উঠে পরিষ্কার করে ফেলুন। দেখবেন কতটা পরিষ্কার হয়ে গেছে। এটি শুধুমাত্র ফর্সা করেনা এটি জার্ম এবং ব্যাকটেরিয়াও ধ্বংস করে।

৬) ডিওডোরেন্ট কম ব্যবহার করুন

ডিওডোরেন্ট সম্পর্কে পুর্বে আলোচনা করা হয়েছে তারপরও বলছি এটি অবশ্যই কম ব্যবহার করবেন। আর ব্যবহার করলে কাপড়ের উপর করুন। সবচেয়ে ভালো হয় প্রাকৃতিক উপায়ে যদি গন্ধ দুর করা যায়। সামান্য বেকিং সোডা সামান্য জলের মধ্যে দিয়ে আন্ডার আর্ম অর্থাৎ বাহুর নিচ অংশ ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন গন্ধ দুর হয়ে যাবে।

৭) চন্দন ও গোলাপ জলের মিশ্রণ

চন্দন একটি ত্বকের জন্য খুব উপকারী। কারন এতে ফর্সাকারী উপাদান রয়েছে। যার ফলে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে যায়। আবার গোলাপ জল গুনেও সমৃদ্ধ। গোলাপ জল ত্বক কোমল করতে সাহায্য করে সেই সাথে দুর্গন্ধ দুর করে। সর্বপরি চন্দন আর গোলাপ জল লাগালে ত্বক হবে উজ্জ্বল কোমল এবং দুরগন্ধ মুক্ত।

৮) অ্যালোভেরা জেল

প্রাকৃতিক উপাদান সমুহের মধ্যে অ্যালোভেরা জেল ভিষণ উপকারী। অ্যালোভেরাতে অ্যালোয়সিন নামক এক উপাদান থাকার কারনে ত্বকের পিগমেন্টেশন সৃষ্টি হয় উৎসেচকের উপাদানে বাধা দেয়। যার ফলে ত্বক কালো বর্ন হতে পারে না। এমনকি অ্যালোভেরাতে এন্টি বেকটেরিয়াল এর উপস্থিতি রয়েছে তাই ব্যাকটেরিয়া ও মৃত কোষ সমূহকে সরিয়ে বগলকে ফর্সা করতে বিশেষ ভাবে কাজ করে। তো যাইহোক একটা অ্যালোভেরা পাতা নিন এবং তার মধ্যে থেকে জেল টুকু বের করে আন্ডার আর্ম এ ঘষতে থাকুন। প্রতি বগলে ১০ মিনিট করে ২০ মিনিট ধরে ঘষুন। তারপর হাল্কা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে মিনিমাম দুই তিন বার করুন তাহলে ১/২ মাসের মধ্যে যেমন ফল চান তেমন ফল পেয়ে যাযবেন।

৯) টুথপেষ্ট

টুথপেষ্ট সত্যি ত্বক পরিষ্কার করার উত্তাম উপকরণ। টুথপেষ্ট দাত যেমন পরিস্কার করে তেমনি বগল ও পরিষ্কার করবে। টুথপেষ্ট দিয়ে যদি ঘষেন তবে সাদা টুথপেষ্ট ব্যবহার করবেন। কারন আলাদা রং এর টুথপেষ্টে রং এর কেমিক্যাল থাকে যা ত্বক ঠান্ডা করে ধরতে পারে তখন বিব্রত বোধ করতে পারেন। তাই সাদা টুথপেষ্ট ব্যবহার করুন। রঙিন টুথপেষ্টে কিন্তু কোন সমস্যা নেই৷ জাস্ট এক্সট্রা কেমিক্যাল থাকে তাই মানা করলাম।

১০) ফর্সাকারী স্ক্রাব ব্যবহার

বগলের ত্বক উজ্জ্বল এবং গন্ধ মুক্ত রাখতে চাইলে ফর্সাকারী স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারন। বেশকিছু ফর্সাকারী স্ক্রাব রয়েছে যেমন Nivea, ST lves & Everyouth ETC. এগুলো ব্যবহার করতে পারেন। যদি প্রাকৃতিক উপাদান গুলো ব্যবহার করতে অসুবিধা হয় থাকে। 

↑ উল্লেখিত নিয়ম গুলো যদি ঠিক মতো মেনে চলেন তবে অবশ্যই কাঙ্খিত ফল পাবেন। কিন্তু কোন উপাদানই রাতারাতি কাজ করবে না। কিছুদিন এক নিয়মে ব্যবহার করতে থাকুন ১/২ মাস পরেই তফাত দেখতে পাবেন। এই গুলো ব্যবহার করার আগে ফোনে ছবি তুলে রাখুন আর এগুলো ব্যবহার করার পর ছবি তুলে মিলিয়ে দেখুন কতটা তফাত হয়েছে দুই ছবির মধ্যে। যদি কাজ হয় তবে কমেন্ট করে বলবেন। 

ধন্যবাদ!!!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top